Reviews by tag: হুমায়ূন আহমেদ

অনেকদিন পর আবার পড়লাম, “রোদনভরা এ বসন্ত” উপন্যাসটি। আমি হুমায়ূন আহমেদের কিছু কিছু বইকে “ওল্ড ওয়াইন ইন আ নিউ বটল” বলে চিহ্নিত করি। এই উপন্যাসটিও সেই ক্যাটাগরির মাঝে পড়ে। চরিত্রগুলোর নাম পাল্টে আলাদা উপন্যাস বলে চালানো। সেই একই বেকার- রোগেভোগা- প্রেমিক যুবক, বারসাত; সেই একই বুদ্ধিমতী-চঞ্চল- মায়াবতী প্রেমিকা, মরিয়ম বা ঐন্দ্রিলা বা মীরু। মীরু ভালোবাসে বারসাতকে। বারসাতও ভালোবাসে মীরুকে। কিন্তু সমস্যা হয় নায়ক বেকার হওয়াতে। উপন্যাসটি বেশ রোম্যান্টিক।

হুমায়ূন আহমেদ একজীবনে এত বেশি সংখ্যক উপন্যাস লিখে গেছেন যে উপন্যাসের প্রয়োজনেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখতে হয়েছে তাকে। বিষয়ের যে বৈচিত্র্য আমরা হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস গুলিতে দেখতে পাই তা অন্যান্য ঔপন্যাসিকের মাঝে দেখতে পাই না। মধ্যবিত্তের সংসার জীবন থেকে শুরু করে মোঘল সম্রাট হুমায়ূনের জীবন-ও তার উপন্যাসের বিষয় হিসেবে উঠে আসতে দেখি। যাত্রা পালার জীবন, চলচ্চিত্রের নায়ক নায়িকার জীবন, সার্কাসের জীবন, নিশিকন্যাদের জীবন থেকে শুরু করে কত কত বিষয় নিয়েই না লেখা সে সব উপন্যাস। সম্প্রতি পড়া “জীবনকৃষ্ণ মেমোরিয়াল হাই স্কুল” উপন্যাসটি এমনই এক বিষয় বৈচিত্র্যে অনন্য। স্কুল নিয়ে লেখা এই উপন্যাসটি আমাকে এক বিশেষ কারণে আকর্ষণ করে।

আমি যখন আমার বুকশেলফের দিকে তাকাই তখন কেবল শুধু বই কিংবা কালো কালির ছাপানো কতগুলো হরফ দেখি না, আমার মনের মাঝে তখন স্মৃতির ট্রেন চলে। এক লাইন থেকে আরেক লাইনে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলা একেকটি ট্রেন দেখি আমি। ধাবমান সেইসব স্মৃতির ট্রেনের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে আমি হিমশিম খাই। তবু ক্লান্ত হই না। ভালো লাগে সেইসব স্মৃতির ট্রেনের দিকে তাকিয়ে থাকতে, ট্রেনের জানালায় দেখা যায় কত শত পরিচিত-অপরিচিত মুখ, খুব ভালো লাগে আমার এই সব ট্রেন দেখতে।